তাঁতিদের বুড়ো আঙুল কেটে দিয়ে ভারতের তাঁত শিল্প, গ্রামের কারিগরদের ভয় দেখিয়ে ভারতের উন্নত লোহাশিল্প – সহ দেশীয় শিল্পের সর্বনাশ করেছিল ইংরেজ শাসকেরা |
কিন্ত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলার পাঁচ বছরে (1914 — 1919 ) ইংরেজের একটিও পণ্যবাহী জাহাজ ভারতে ঢুকতে পারেনি | আর তার ফলেই যুদ্ধ চলার সময়ে মাথা তুলে দাঁড়ায় এ দেশের লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, বস্ত্র বয়ন শিল্প , জুট শিল্প এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলেছিল 1939 থেকে 1945 সাল পর্যন্ত | এই যুদ্ধের পরে দুর্বল হয়ে পড়ে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীরা | আর এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে পরেই স্বাধীনতা পায় আমার দেশ |সেই স্বপ্নের বছরটি ছিল 1947 |
তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে পরে ভারতবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল | জিনিসের দাম আর জমির খাজনা আকাশ ছুঁয়েছিল |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীনই 1942 – এ ভয়াবহ খাদ্যের অভাব বা মন্বন্তর দেখা দেয় | শুধু অবিভক্ত বাংলাতেই না খেতে পেয়ে মারা যান 30 লক্ষ বাঙালী | ইংরেজ শাসকের দুরাচারের কারণেই এই খাবারের অভাব দেখা দেয়
|এখন তৃতীয় করোনা বিশ্বযুদ্ধ চলছে | ভারতের শিল্পের, কৃষির সর্বনাশ হয়ে চলেছে |জিনিসের দাম প্রতিদিন বেড়ে চলেছে | আধপেটা – অভুক্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে |আর মনে হচ্ছে এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বুঝি শুধুই অভিশাপ হয়ে নেমে আসবে ভারতবাসীর জীবনে |
তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে | বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রতিদিন ভারতবাসীর বন্ধন দৃঢ় হয়ে উঠছে | মন্দির, মসজিদ, গির্জাতে না – গিয়েও যে ধর্মাচরণ করা যায়, তা আমরা বুঝতে পারছি |
আমাদের সভ্যতার রক্ষক ও বাহক, আমাদের জীবনদেবতা , আমাদের ধাত্রী যে বিজ্ঞান এবং তার সন্তানেরা, তা আমরা এখন প্রতিদিনের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই বুঝতে পারছি |
তবে এই সবই হল একটি দিক | বলা যায়, এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছোটখাটো সুফল |
যা বিরাট যা বিশাল তা আমাদের সহজে চোখে পড়ে না | এই তৃতীয় করোনা বিশ্বযুদ্ধও ভারতের জন্য বিরাট সুখবর বয়ে আনবে |
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুফল বুঝতে আমাদের কিছু দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল | এই তৃতীয় করোনা বিশ্বযুদ্ধের সুফলের জন্যও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে |
আর কে না জানে, অপেক্ষার ফল সব সময় মধুরই হয় |