শাসক দল বিরোধী জোর হাওয়া বইতে শুরু করেছিল 2001- এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে | আর সেই হাওয়ায় গা ভাসিয়ে শাসক ফ্রন্টবামের চক্রবর্তী সুভাষ, সৈফুদ্দিন চৌধুরী আর সমীর পুততন্ডুরা দল ছাড়ার ছক কষেছিলেন | সুভাষ দলে থেকে যাওয়ায় সেই যাত্রায় নির্বাচনী বৈতরণী কোন রকমে পার হয়ে যায় বড়োদাদা সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট |
দিল্লিতে এই রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপির মস্তিস্কপ্রক্ষালনী ছ দিনের মিটিঙে উঠে এসেছে এই 2001 – র প্রসঙ্গ |
কেন্দ্রের এবং রাজ্যের নেতারা একমত হয়েছেন, এখন এই রাজ্যে 2001- র মতোই শাসক দল বিরোধী জোরালো হাওয়া বইছে | কিন্ত, শাসক দলের এক প্রভাবশালী নেতা চলতি বছরের শেষে দল ছেড়ে আলাদা মঞ্চ তৈরি না – করলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী এই হাওয়াকে বিজেপি কাজে লাগাতে পারবে না | এই রাজ্যে ” উনিশে হাফ, একুশে তৃণমূল সাফ হবে না ” | মানে এই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না |
বিজেপি নেতাদের মাথাব্যথার কারণ 90- টি কঠিন আসন | যে 90 -টি আসনে রয়েছে 35 শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট | এই 90- টি আসনে সংখ্যাগুরু ভোটের মেরুকরণ করা না – গেলে এবং 2019 – এ পাওয়া 40.5 শতাংশ ভোটকে 45 শতাংশে নিয়ে যেতে না – পারলে 2001- এর মতোই শাসক দল বিরোধী ভোট ভাগের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় বার ক্ষমতায় চলে আসবে, তাও বিজেপি নেতাদের আলোচনায় উঠে এসেছে |
শেষে বলি, যত দিন যাচ্ছে, ততোই তৃণমূলের ওই প্রভাবশালী নেতার দল ছাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হচ্ছে | আর 90 – টি আসনে সংখ্যালঘুরা যে বিজেপি বিরোধী প্রধান শক্তিশালী দলটিকেই একজোট হয়ে বেছে নেবেন, তা সবাই জানেন |
এই রকমই একটি আসন বারাকপুর লোকসভার অধীন আমডাঙা বিধানসভা | এখানে বিজেপি নেতারা জেতার আশা কি স্বপ্নেও করেন?
আর এটা তো দেখাই গেছে, কোন সর্বভারতীয় দল কোন রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনে যতটা ভোট পায়, বিধানসভা নির্বাচনে সেই ভোটের অন্তত 3 – 5 শতাংশ কমে যায় |
তাই চিন্তন বৈঠক চলুক | বস্তা বস্তা নস্যি উড়ুক |
কিন্ত…. |